কখনো কি আপনি ভেবেছেন যে গর্ভকালীন সময়ে আপনি যে ভিটামিন গ্রহণ করেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান সেগুলো আপনার গর্ভ পর্যন্ত কীভাবে পৌঁছে? এই সবকিছুর প্রক্রিয়া শুরু হয় পানির মাধ্যমে। প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করে নিয়ে শরীরের কোষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পানিই আপনার শরীরকে সাহায্য করে।
এছাড়া ভিটামিন, মিনারেল সহ অন্যান্য হরমোন যাতে রক্ত কণিকায় পৌঁছে যায় সে ব্যাপারেও পানি আপনার শরীরকে সাহায্য করে। এবং এই পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ রক্ত কণিকা পরবর্তীতে প্লাসেন্টাতে পৌঁছে এবং সর্বোপরি আপনার গর্ভের শিশু পর্যন্ত পৌছায়। এটা জেনে রাখবেন যে এই ধরনের সকল প্রক্রিয়াই পানির সাহায্যে হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তারচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল পানির উৎস নিরাপদ কি না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। কেননা পানির মধ্যে শুধু H20 থাকে ব্যাপারটা এমন না, আপনার পান করা পানির মধ্যে আরো অনেক কিছুই থাকতে পারে।
✅ গর্ভকালীন সময়ে আপনার একটু বেশি পানি পান করা উচিৎ
গর্ভকালীন সময়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনার এবং গর্ভের শিশু উভয়ের জন্যই আপনার একটু বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে। যদিও পানির পরিমাণটা একদমই নির্ভর করছে আপনার শারীরিক গঠন এবং আপনি কতটা কর্মঠ তার উপর।
সাধারণ হিসেব অনুযায়ী আপনাকে প্রতিদিন আট আউন্স পরিমাণ গ্লাসের ৮-১০ গ্লাস বা ২ থেকে ৩ লিটার পানি (সব ধরণের উৎস মিলিয়ে) পান করতে হবে। তবে সব চাইতে ভালো হয় যদি আপনার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা এই বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া যায়।
একসাথে অনেক পানি পান না করে বরং সারাদিনে কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করুন, কেননা একত্রে অনেক পানি পান করে ফেলাটা আপনাকে অনেক অস্বস্তির মধ্যে ফেলতে পারে।
সাধারণত আমরা অনেকেই পরিমিত পানি খাই না, তাই প্রতিদিন সকালে একটা অথবা দুইটা বোতলের মধ্যে পানি ঢেলে সেগুলো হাতের নাগালের মধ্যে রাখুন যাতে করে যে কোন সময়েই আপনি পানি পান করতে পারেন।
কিন্তু একটা প্রশ্ন আসতেই পারে, সেটা হল কীভাবে বুঝবেন যে আপনি পরিমাণ মত পানি পান করছেন কি না? এর উত্তর হল আপনার যদি নিয়মিত প্রস্রাব হয় এবং তার রঙ ধুসর অথবা রঙ বিহীন হয় তাহলেই বুঝতে হবে আপনার পানি পান করার পরিমাণ ঠিক আছে।
✅ পানিশুন্যতা থেকে দূরে থাকার একমাত্র উপায় কেবল পানিই নয়
পানি অবশ্যই সবচাইতে ভালো, তবে যখন আপনার পান করার মত পানি আশেপাশে থাকবে না তখন কি করতে পারেন? অন্যান্য আরো অনেক পানি জাতীয় দ্রব্য আছে যেটা পানি শুন্যতা থেকে আপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, সেগুলো হলঃ দুধ (৮ আউন্স পরিমাণ দুধে ৭ আউন্স পরিমাণ পানি থাকে), জুস, ফলের রস (জুসের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি মিশ্রিত থাকলে অথবা অন্যান্য পানীয়তে যদি সোডিয়াম মিশ্রিত থাকে তাহলে সেগুলো থেকে দূরে থাকবেন) এবং ক্যাফেইন মুক্ত চা পানির অন্যতম ভালো উৎস।
আপনি শুধু ক্যালোরি এবং পাস্তুরিত করা কি না এই সমস্ত তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকবেন। তবে আপনি অতিরিক্ত সোডা পান করা থেকে দূরে থাকবেন, কেননা এর মধ্যে শুধুমাত্র ক্যালোরি ছাড়া আর কিছুই নেই। এছাড়া ক্যাফেইন সমৃদ্ধ অন্যান্য পানীয় থেকে দূরে থাকবেন, কেননা এগুলো খেলে আপনার অতিরিক্ত প্রস্রাব হতে পারে। এছাড়া গর্ভকালীন সময়ে ক্যাফেইনের অন্যান্য আরো বেশ কিছু ক্ষতিকারক প্রভাব রয়েছে।
মনে রাখবেন, আমাদের খাবার থেকেই শতকরা বিশ ভাগ পানীয় আমরা পেয়ে যাই। এরমধ্যে ফল ফলাদির মধ্যেই পানি বেশি থাকে। যেমন এক কাপ তরমুজের মধ্যে পাঁচ আউন্স পরিমাণ পানি থাকে। এছাড়া মাঝারী আকৃতির নাশপাতি এবং এক কাপ স্ট্রবেরির মধ্যে সাড়ে চার আউন্স পানি থাকে, মাঝারী আকৃতির কমলার মধ্যে চার আউন্স পানি থাকে।
মূলপোস্ট: fairylandparents.quora.com