“লার্নিং ডিসএবিলিটি” টার্মটি সাধারণত কোনো কিছু শেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বাঁধা ও ব্যাধির সম্মুখীন হওয়া বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। এটি এক ধরনের স্নায়বিক ব্যাধি যা শিশুর মস্তিষ্কের তথ্য সঞ্চালন ও তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সুতরাং, লার্নিং ডিসএবিলিটি হচ্ছে একটি তথ্য প্রক্রিয়াকরণগত সমস্যা যার দরুন শিশুকে কোনো দক্ষতা শেখা ও সেটি ব্যবহার করতে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়।

শিশুরা যখন বিভিন্ন দক্ষতামূলক কাজের সাথে পরিচিত হয়, হোক সেটা কিছু পড়তে পারা বা লিখতে পারা বা বুঝতে পারা – সেক্ষেত্রে তাদের কাছে প্রথমদিকে বিষয়গুলো কঠিন মনে হতে পারে বা একজন শিশু যেটা খুব তাড়াতাড়ি বোঝে, আরেকজন শিশুর সেটা বুঝতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বারবার বুঝিয়ে দেওয়ার পরও যদি সে বিষয়গুলো বুঝতে না পারে অথবা বুঝলেও বলতে বা লিখতে না পারলে সেক্ষেত্রে ওই শিশুর লার্নিং ডিসএবিলিটি থাকার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুর নিম্নের কোনো একটি বা একাধিক ব্যাপারে সমস্যা থাকতে পারে।

– পড়তে না পারা।
– লিখতে না পারা।
– কোনো বিষয় অথবা বিষয়ের কোনো প্রসঙ্গ বা আলোচনা না বোঝা।
– গণিত না বোঝা।
– দিকনির্দেশনা না বোঝা

উপরের একটি বা একাধিক সমস্যা আপনার শিশুর মধ্যে দেখতে পেলে ধরে নিতে পারেন যে তার লার্নিং ডিসএবিলিটি আছে। শিশুদের জন্য এটি একটি সর্বজনীন সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ এর অনূর্ধ্ব প্রায় (৮-১০)% শিশু লার্নিং ডিসএবিলিটিতে ভোগে। তাছাড়া দেশটিতে লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত প্রায় ১ মিলিয়ন শিশু স্কুলে বিশেষ শিক্ষা গ্রহণ করে।

মনে রাখবেন একটি শিশু কতটা চটপটে, কতটা বুদ্ধিমান – এর সাথে লার্নিং ডিসএবিলিটির কোনো সম্পর্ক নেই। লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুদের কোনো কিছু দেখা, শোনা বা বোঝা অন্য শিশুদের চেয়ে ভিন্ন হয়। যার কারণে তারা নিত্যদিনের পড়াশোনা বিশেষ করে শ্রেণীকক্ষে মনোযোগী থাকা বা পরীক্ষার সময় প্রস্তুতি নিতে সমস্যার মধ্যে পড়ে।

মূলপোস্ট: fairylandparents.quora.com